অ্যামাজন তো পৃথিবীতে সব থেকে বড় ই কমার্স সাইট তাই না? দেখেন তো তাদের লোগোতে কোন ই-শপিং কার্ট, ট্রলি, শপিং ব্যাগ অথবা এরকম কিছু আছে কিনা, অথবা ফেডেক্সের লোগোতে কুরিয়ার কোম্পানির মত চাকা, গাড়ি ইত্যাদির শেপ আছে কিনা, নিজে দেখুন, নিজে ই বুঝতে পারবেন পার্থক্যটা।

লোগো হচ্ছে বিজনেসের পরিচিতি

লোগোকে একটা বিজনেসের চেহারা বলা হয়ে থাকে এবং এই চেহারা ভালো দেখানোর জন্য আপনি মাত্র একটা সুযোগ পাবেন যেটা কে বলা হয় “First Impression” । ক্লাইন্ট যদি প্রথম দেখাতেই আপনাকে রিজেক্ট করে দেয় তাহলে আপনি যত ভালো সার্ভিস ই প্রোভাইড করেন না কেন কোন লাভ হবে না, সে হয়তো আপনার ফেসবুক পেজে প্রবেশ করার পরই বের হয়ে আসবে, কোন আগ্রহ তৈরি হবে না তার আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের প্রতি। তাই নিজের ক্রিয়েটিভিটি বুঝাতে হবে সব থেকে আগে।

ডিজাইন হতে হবে সিম্পল এবং ক্রিয়েটিভ

 

আপনি আপনার লোগো অনেক জায়গাতে ব্যবহার করবেন তাই না? বিজনেস কার্ড, ব্রশিউর, ফ্লাইয়ার, প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, হতে পারে সেটা বিলবোর্ডের মত বড় জায়গাতেও, তাহলে এখানে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, যেখানে ই আপনি আপনার লোগো ব্যবহার করেন না কেন সেটা বিলবোর্ডের মত বড় জায়গা হোক অথবা বিজনেস কার্ড এর মত ছোট জায়গা আপনার লোগো যেনো সব জায়গাতে ই ভালো ভাবে বুঝা যায়। সে জন্য বলা হয়ে থকে লোগো সব সময় সাধারন ভাবে ডিজাইন করার জন্য, অনেক জটিল ডিজাইনে গেলে সেটা বড় জায়গাতে বুঝা গেলে ও ছোট জায়গাতে বুঝা যায় না, তাই সুন্দর একটা অর্থ রেখে সিম্পল ডিজাইন হবে আপনার জন্য চমৎকার আইডিয়া, অ্যামাজন অথবা ফেডেক্স এর লোগো দেখলে ই বুঝবেন ব্যাপার টা কি।

লোগোকে বিভিন্ন ক্লাইন্টের সামনে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা উচিত

লোগো ডিজাইন করার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সেটা বিভিন্ন ভাবে আপনার ক্লাইন্টের সামনে তুলে ধরা, অনেকে কোম্পানির মগে, কলমে অথবা টি-শার্টে নিজেদের লোগো প্রিন্ট করে ক্লাইন্টকে দেখানোর চেস্টা করে, যেটা খুব ভালো একটা আইডিয়া, আপনার লোগো যত বেশি মানুষ দেখবে ঠিক ততবেশি আপনাকে মনে রাখবে।

আপনার ক্লাইন্ট অনুযায়ী ডিজাইন করতে হবে লোগো

আপনার ক্লাইন্ট কারা সেটা চিন্তা করে আপনাকে লোগো বানাতে হবে, যেমন আপনার ক্লাইন্ট যদি হয় তরুন সমাজ তাহলে আপনি বৃদ্ধরা যেরকম পছন্দ করে সেরকম আইডিয়া নিয়ে লোগো বানালে সেটা কাজ করার সম্ভাবনা কমে যাবে। ফন্টের কথাই চিন্তা করেন বৃদ্ধরা কিন্তু “সেরিফ ফন্ট” পছন্দ করে ঠিক সে ভাবে তরুনরা পছন্দ করে “সেন্স সেরিফ” ফন্ট ঠিক একই ভাবে রঙের এবং আইডিয়ার ব্যাপারটা ও এক, তাই আপনার লোগো ডিজাইন করার আগে আপনার ডিজাইনারের সাথে ভালো মত কথা বলে নিন, আপনার মতামত দিন, তার কথা শুনুন দেখবেন ভালো একটা আউটপুট আসবে, মনে রাখবেন ডিজাইনাররা ফন্ট, কালার, আইডিয়া এই ব্যাপারগুলোতে হয়তো আপনার থেকে একটু বেশিই ধারনা রাখে তাই আপনার মতামতের সাথে সাথে তার মতামতের গুরুত্ব দিন।

 

লোগোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব দিন

 

লোগোকে গুরুত্ব দিন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব দিন, অনেকেই আছে লোগো একটা হলেই হলো চিন্তা করে কোন অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে একটা শেপ নিয়ে নিচে একটা নাম লিখেই কাজ চালিয়ে নেয়,আবার অনেকে আছে লোগোই ব্যবহার না করে প্রোফাইল ফটোতে প্রোডাক্ট এর একটি ছবি দিয়ে রাখে, আমার মতে এটা উচিত নয়, আপনি যদি সিরিয়াসলি বিজনেস করতে চান হাজার ২ অথবা হাজার ৫ কোন ম্যাটার করে না কিন্তু আপনার লোগো যদি একদম সস্তা এবং কমন হয়ে যায় আপনি অন্য প্রতিযোগীদের সাথে টিকে থাকতে পারবেন না, আর বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই ফেসবুকে মার্কেটিং করে আর তাদের লোগো থাকে একদম তাদের ফেসবুক পেজের প্রথমে প্রোফাইল ফটো সেকশনে তাই মনে রাখতে হবে সেই জায়গাটা আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

লোগোর মধ্যে চমৎকার গল্প নিয়ে আসেন, ই-কমার্সের লোগো বানাবেন মানে এই না যে আপনাকে সবার মত লোগোর মধ্যে “শপিং কার্টের শেপ” অথবা “ট্রলির শেপ সাথে একটা মাউস” ইত্যাদি দিতে হবে, এরকম করলে অন্যদের থেকে আলাদা কিভাবে হলেন আপনি? এরকম লোগো হাজার হাজার আছে। উপরে বলেছি একবার অ্যামাজন এর লোগোর কথা, ফেডেক্সের লোগোর কথা, অ্যামাজন তো পৃথিবীতে সব থেকে বড় ই কমার্স সাইট তাই না? দেখেন তো তাদের লোগোতে কোন ই শপিং কার্ট, ট্রলি, শপিং ব্যাগ অথবা এরকম কিছু আছে কিনা, অথবা ফেডেক্সের লোগোতে কুরিয়ার কোম্পানির মত চাকা, গাড়ি এগুলার শেপ আছে কিনা, নিজে দেখুন নিজে ই বুঝতে পারবেন পার্থক্য টা।